Smart Shishu Parents
ছেলে মেয়ে কাঁদছে কেন বাবা মা বুঝতে পারে না
Lifestyle

আপনার শিশু কি কথায় কথায় কাঁদে আর জেদ করে সবসময় মোবাইল চায়? শান্ত করার কিছু উপায় জানতে এখুনি দেখুন!

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা ও ক্লান্তির পর যখন দেখেন আপনার ছোট্ট সোনামণি অকারণে জেদ করছে, আর মোবাইল ছাড়া কোনো কথাই শুনতে চাইছে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনটা বিষণ্ণ হয়ে যায়। বর্তমান সময়ের প্রায় প্রতিটি ঘরেই বাবা-মায়েদের একটি খুব সাধারণ কিন্তু বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো এই ডিজিটাল আসক্তি এবং বাচ্চার অকারণ কান্না। আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না ঠিক কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেব। একটু ভেবে দেখুন তো, এই ছোট্ট মানুষটা কিন্তু পৃথিবীটাকে সবেমাত্র চিনতে শিখছে। তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বা কথা গুছিয়ে বলার দক্ষতা এখনও আমাদের মতো পরিণত হয়নি। তাই এই সময়ে কঠোর শাসন নয়, বরং দরকার একটু সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রচুর ধৈর্য ও ভালোবাসা। আসুন, একজন অভিভাবক হিসেবে আজ আমরা এমন কিছু বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত কৌশল নিয়ে আলোচনা করি, যা আমাদের এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে সাহায্য অনেকটাই সাহায্য করবে।

crying boy

বাচ্চারা কেন হঠাৎ করে এত জেদ করে ও কাঁদে?

বাচ্চাদের জেদ কমানোর উপায় খোঁজার আগে আমাদের বুঝতে হবে তারা কেন জেদ করছে বা কাঁদছে। আমরা অনেক সময় ভাবি বাচ্চা ইচ্ছা করে আমাদের বিরক্ত করছে, কিন্তু বিষয়টা আসলে তেমন নয়। প্রতিটি কান্নার পেছনেই একটি অব্যক্ত কারণ থাকে। ছোট বাচ্চাদের শব্দভাণ্ডার খুব সীমিত থাকে। তাদের হয়তো ক্ষুধা পেয়েছে, ঘুম পেয়েছে, কিংবা কোনো কারণে মন খারাপ বা শারীরিক অস্বস্তি হচ্ছে—কিন্তু তারা সেটা গুছিয়ে বলতে পারে না। যখন তারা বোঝাতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই হতাশা থেকেই কান্নার সৃষ্টি হয়। তাই বাচ্চা কাঁদলে প্রথমেই বিরক্ত না হয়ে, তার শারীরিক বা মানসিক কোনো কষ্ট হচ্ছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন। তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আশ্বস্ত করুন যে আপনি তার পাশেই আছেন।

অনেক সময় বাবা-মা নিজেদের কাজে এত ব্যস্ত থাকেন যে, বাচ্চাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। তখন বাচ্চা বুঝতে পারে যে, সে যদি জোরে কাঁদে বা কোনো জিনিস ছুড়ে ফেলে, তবেই বাবা-মা তার দিকে তাকাবে। নেতিবাচক হলেও, এই মনোযোগটা পাওয়ার জন্যই তারা জেদ করে। তাই প্রতিদিন শত ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত কিছুটা সময় শুধুমাত্র আপনার সন্তানের জন্য বরাদ্দ রাখুন। এই সময়টায় মোবাইল বা অন্য কোনো কাজ থেকে দূরে থেকে শুধু ওর সাথে খেলুন বা গল্প করুন। এতে বাচ্চার মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয় এবং মনোযোগ আকর্ষণের জন্য অকারণ কান্নাকাটি কমে যায়।

মোবাইল বা টিভিতে দ্রুত পরিবর্তনশীল কার্টুন বা গেম বাচ্চাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন (Dopamine) নামক হরমোন রিলিজ করে, যা তাদের সাময়িক ও তীব্র আনন্দ দেয়। যখনই সেই স্ক্রিনটা সরিয়ে নেওয়া হয়, তাদের মস্তিষ্ক সেই আনন্দের অভাব বোধ করে এবং তারা মারাত্মক খিটখিটে হয়ে যায়। এটি অনেকটা নেশার মতো কাজ করে। তাই বাচ্চার হাতে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল দিয়ে রাখাটা তাদের মানসিক বিকাশের জন্য বড় একটি বাধা। এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায়গুলো আমাদের খুব ধীরে এবং কৌশলগতভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

mom_feeding_me

খাওয়ার সময় মোবাইলের বায়না দূর করার কিছু উপায়

সবচেয়ে বড় সংগ্রামটা শুরু হয় যখন বাচ্চাকে খাওয়াতে বসানো হয়। "মোবাইল না দিলে খাবো না"—এই জেদটা এখন ঘরে ঘরে। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। হঠাৎ করে একদিনে মোবাইল বন্ধ করে দিলে বাচ্চা হয়তো না খেয়েই থাকবে। তাই প্রথমে খাওয়ার সময়টাকে আনন্দদায়ক করার চেষ্টা করুন। খাবার টেবিলে বসে পরিবারের সবাই মিলে গল্প করুন। বাচ্চাকে বলুন, "আজ আমরা একটা নতুন খেলা খেলব, দেখি কে কত তাড়াতাড়ি নিজের খাবার শেষ করতে পারে!" খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভির বদলে তাকে বিভিন্ন গল্প নিয়ে অন্য মনস্ক করার চেষ্টা করবেন । প্রথম দিকে সে হয়তো বিরক্ত হবে, কাঁদবে, কিন্তু আপনারা যদি নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট থাকেন এবং তাকে ভালোবেসে বোঝান, তবে কয়েকদিনের মধ্যেই সে এই নতুন নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

খাবারের প্রতি বাচ্চার আগ্রহ বাড়াতে তাকে খাবার পরিবেশনে বা ছোটখাটো কাজে যুক্ত করতে পারেন। যেমন, তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, "তুমি কি আজ লাল প্লেটে খাবে নাকি নীল প্লেটে?" কিংবা "আজ আমরা গাজর দিয়ে একটা সুন্দর ফুল বানাবো, তুমি সাহায্য করবে?" যখন বাচ্চারা নিজেদের কোনো কাজের অংশ হিসেবে দেখে, তখন তারা অনেক বেশি উৎসাহিত হয়। খাওয়ার সময়টা যেন কোনো শাস্তির সময় মনে না হয়, বরং সেটা যেন পরিবারের সাথে কাটানো সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

Little boy looking at his mobile phone

অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি কীভাবে ধাপে ধাপে কমাবেন?

মোবাইল ফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বাচ্চাদের মোবাইল থেকে রাতারাতি পুরোপুরি দূরে রাখা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই সম্ভব। তবে এই কাজটি করতে হবে অত্যন্ত ধীরে। আপনার বাচ্চা যখন খুব আগ্রহ নিয়ে একটা কার্টুন দেখছে, তখন হুট করে তার হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নেবেন না। এতে সে প্রচণ্ড রেগে যাবে এবং তার জেদ আরও বেড়ে যাবে। এর বদলে আপনারা তাকে আগে থেকে সতর্ক করতে পারেন। বলতে পারেন, "আর একটা কার্টুন শেষ হলেই কিন্তু আমরা ফোনটা রেখে দিয়ে লুকোচুরি খেলব।" এভাবে তাকে মানসিক প্রস্তুতির সময় দিন। যখন সময় শেষ হবে, তখন তাকে মনে করিয়ে দিন এবং খুব শান্তভাবে ফোনটা নিয়ে নিন।

বাচ্চারা হলো ভীষণ অনুকরণপ্রিয়। তারা বাবা-মাকে যা করতে দেখে, ঠিক তাই শেখে। আমরা যদি সারাদিন ফোন নিয়ে বসে থাকি, তবে তাদের ফোন দেখতে বারণ করাটা খুব একটা কাজে আসবে না। তাই অন্তত বাচ্চার সামনে নিজেদের ফোন ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন। আপনি যদি অবসরে বই পড়েন বা বাগান করেন, দেখবেন আপনার বাচ্চাও আপনার পাশে বসে আপনার কাজগুলো অনুকরণ করার চেষ্টা করছে। আমাদের আচরণই তাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষাক্ষেত্র।

মোবাইলের বদলে তাদের হাতে এমন কিছু তুলে দিন যা তাদের কল্পনাশক্তি বাড়ায়। যেমন—কালারিং বুক, বিল্ডিং ব্লকস, পাজল বা ক্লে (Clay)। আপনারা চাইলে বিভিন্ন মজার ওয়ার্কশিট বা ছবি প্রিন্ট করেও তাদের দিতে পারেন, যা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি আনন্দও দেবে। যখন তারা কোনো কিছু নিজের হাতে তৈরি করতে শিখবে, তখন সেই আনন্দটা মোবাইলের স্ক্রিনের চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাদের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করুন, এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং মোবাইলের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে কমে আসবে।

বাচ্চার জেদ বা কান্নাকাটি সামলানোর জাদুকরী কিছু কৌশল

বাচ্চা যখন জেদ করে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে বা অবিরাম কাঁদছে, তখন পরিস্থিতি সামলানো খুব কঠিন মনে হতে পারে। এই সময়গুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনাদের নিজেদের শান্ত থাকা। বাচ্চা যখন চিৎকার করছে, তখন আপনিও যদি রেগে গিয়ে চিৎকার করেন বা গায়ে হাত তোলেন, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আপনার শান্ত থাকাটা বাচ্চার কাছে একটি বার্তা পাঠাবে যে, চিৎকার করে কোনো লাভ নেই। কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন, নিজেকে শান্ত রাখুন এবং বাচ্চার কান্নার বেগ কিছুটা কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর তাকে কাছে টেনে নিয়ে কথা বলুন।

বাচ্চারা অনেক সময় জেদ করে কারণ তারা মনে করে সব কিছুতেই তাদের ওপর হুকুম চালানো হচ্ছে। তাই তাদের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন। সরাসরি কোনো নির্দেশ না দিয়ে অপশন দিন। যেমন— "এখনই পড়তে বসো" না বলে বলতে পারেন, "তুমি কি এখন অঙ্কের বইটা পড়বে, নাকি রং করবে?" অথবা "রাতে রুটি খাবে নাকি ভাত?" এই ছোট ছোট স্বাধীনতাগুলো ওদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং অকারণে জেদ করার প্রবণতা ম্যাজিকের মতো কমিয়ে দেয়। তারা মনে করে যে সিদ্ধান্তটা তারাই নিয়েছে, তাই কাজেও মন দেয় বেশি।

বাচ্চা যখন কাঁদছে, তখন তাকে বলবেন না "চুপ করো, কাঁদার কী হয়েছে!" এর বদলে তার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলুন, "আমি বুঝতে পারছি তুমি রাগ করেছ বা তোমার মন খারাপ। কিন্তু এই কাজটা করা যাবে না।" এতে বাচ্চা বুঝতে পারে যে আপনি তার মনের অবস্থা বুঝতে পারছেন। তাদের অনুভূতিকে সম্মান করলে তারা অনেক দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। তাদের বোঝান যে কাঁদা বা রাগ করাটা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই রাগের বশে জিনিসপত্র ভাঙা বা কাউকে আঘাত করাটা ঠিক নয়।

নেতিবাচক আচরণ পরিবর্তনে পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট (Positive Reinforcement)

আমরা অনেক সময় বাচ্চার ভুলের দিকে বেশি নজর দিই। সে কী কী খারাপ কাজ করল, তা নিয়ে বকাঝকা করি। কিন্তু সে যখন একটা ভালো কাজ করে, তখন হয়তো সেভাবে প্রশংসা করি না। এই অভ্যাসটা আমাদের বদলাতে হবে। আপনার সন্তান যখনই ছোট কোনো ভালো কাজ করবে, যেমন—নিজের খেলনাগুলো গুছিয়ে রাখল, কারো সাথে জিনিস শেয়ার করল বা ফোনটা নিজ থেকে আপনার হাতে ফেরত দিল, তখন তাকে মন খুলে বাহবা দিন। জড়িয়ে ধরে বলুন, "তুমি আজ খুব ভালো কাজ করেছ, আমি তোমার ওপর খুব খুশি।" এই ছোট্ট প্রশংসাগুলো তাদের মনে গেঁথে যায় এবং তারা আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হয়।

ছোট বাচ্চাদের মন খুব দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে যায়। বাচ্চা যখন কোনো অযৌক্তিক জিনিসের জন্য জেদ করছে, তখন হঠাৎ করে অন্য কোনো মজার বিষয়ের দিকে তার মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। একে বলা হয় 'ডিস্ট্রাকশন' বা মনোযোগ ঘোরানোর কৌশল। যেমন— "আরে দেখো দেখো, জানলার বাইরে ওই পাখিটা কী করছে!" বা "চলো তো দেখি, তোমার প্রিয় খেলনাটা কোথায় লুকিয়ে আছে!" দেখবেন, তার কান্না থেমে গেছে এবং সে নতুন বিষয় নিয়ে মেতে উঠেছে। এটি খুব সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়।

বাচ্চাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা খুবই জরুরি। কখন ঘুম থেকে উঠবে, কখন খাবে, কখন খেলবে এবং কখন ঘুমাবে—এর একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকলে বাচ্চাদের মস্তিষ্ক সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকে। রুটিন মেনে চললে বাচ্চাদের মধ্যে অস্থিরতা কমে আসে এবং তারা অনেক বেশি শান্ত থাকে। তবে রুটিনটা যেন খুব বেশি কড়াকড়ি না হয়, মাঝে মাঝে একটু ছাড় দিলে তারা সেটা আনন্দের সাথে গ্রহণ করে।

Boy cries in public place

পাবলিক প্লেসে বাচ্চার জেদ সামলাবেন কীভাবে?

অনেক অভিভাবকের কাছে সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা হলো শপিং মল বা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে বাচ্চার জেদ করা। এই পরিস্থিতিতে অন্য মানুষের সামনে আমরা অনেক সময় লজ্জা পেয়ে যাই এবং বাচ্চার জেদ মেনে নিই। কিন্তু একবার জেদ মেনে নিলে বাচ্চা বুঝতে পারে যে, বাইরে গিয়ে কাঁদলেই তার দাবি আদায় হয়ে যায়। তাই বাইরে যাওয়ার আগেই বাচ্চার সাথে কথা বলে নিন। তাকে বুঝিয়ে বলুন যে আপনারা কোথায় যাচ্ছেন, সেখানে কী কী করা যাবে আর কী কী করা যাবে না। তাকে বলুন, "আমরা আজ ঘুরতে যাচ্ছি, কিন্তু আজ আমরা কোনো খেলনা কিনব না। তুমি যদি খুব ভালো থাকো, তবে ফেরার পথে আমরা তোমার প্রিয় আইসক্রিম খাব।"

যদি বাইরে গিয়ে বাচ্চা কোনো কারণে জেদ শুরুই করে দেয়, তবে মানুষের কথায় কান না দিয়ে বাচ্চার দিকে মনোযোগ দিন। তাকে সেখান থেকে একটু সরিয়ে নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে যান। তার চোখের লেভেলে বসে শান্ত গলায় তাকে মনে করিয়ে দিন যে আপনারা বাড়ি থেকে কী কথা বলে এসেছিলেন। যদি সে তারপরও না শোনে, তবে কোনো রকম রাগ না দেখিয়ে তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসুন। এতে সে পরিষ্কার বার্তা পাবে যে, কান্নাকাটি করে কোনো লাভ নেই এবং নিয়ম ভাঙলে তার ফলাফল ভোগ করতে হবে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটা ভীষণ জরুরি।

পরিশেষে আপনাদের জন্য কিছু কথা

প্যারেন্টিং বা সন্তান প্রতিপালন কোনো রেস বা প্রতিযোগিতা নয়। এটি একটি অত্যন্ত সুন্দর, আবেগময় এবং দীর্ঘ জার্নি। প্রতিটি বাচ্চাই আলাদা এবং তাদের সমস্যাগুলোও আলাদা। তাই অন্যের বাচ্চার সাথে নিজের বাচ্চার তুলনা কখনোই করবেন না। "ওর বাচ্চা কত শান্ত, আর আমারটা কত দুষ্টু"—এই ধরনের চিন্তা শুধু আপনাদের মানসিক চাপই বাড়াবে। আপনার সন্তান আপনার কাছে সেরা, শুধু তাকে একটু ভালোবাসার মোড়কে সঠিক পথটা দেখাতে হবে।

আপনার সন্তান যখন কাঁদে বা জেদ করে, তখন ভাববেন না যে সে খারাপ বা অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে। সে শুধু তার মনের ভাবটা আপনাকে তার মতো করে বোঝাতে চাইছে, হয়তো তার শেখার প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগছে। একটু ধৈর্য, অনেকখানি ভালোবাসা, আর সঠিক দিকনির্দেশনা—ব্যাস, এইটুকুতেই দেখবেন আপনার ছোট্ট সোনামণি কতটা লক্ষ্মী হয়ে উঠেছে। মনে রাখবেন, আপনার দেওয়া সময় এবং ভালোবাসাই আপনার সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। গ্যাজেট বা দামি খেলনা কখনোই বাবা-মায়ের স্নেহের বিকল্প হতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের শিশুদের জন্য একটি সুন্দর, সুস্থ এবং আনন্দদায়ক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি, যেখানে তারা গ্যাজেটের ভার্চুয়াল জগতে নয়, বরং প্রকৃতির সাথে এবং পরিবারের সাথে বেশি সময় কাটাবে।

আপনার মতামত আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান! আপনারা কীভাবে আপনাদের বাচ্চার জেদ সামলাবেন বা মোবাইল আসক্তি দূর করার জন্য কী কী কৌশল ব্যবহার করেন, তা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপনাদের একটি ছোট অভিজ্ঞতা বা পরামর্শ হয়তো অন্য একজন চিন্তিত বাবা-মায়ের অনেক বড় উপকারে আসতে পারে।

(আমার এই লেখা পড়ে যদি আপনার একটুও ভালো লেগে থাকে বা আপনার উপকারে আসে, তবে অবশ্যই আপনার পরিচিত অন্য বাবা-মায়েদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনার একটি শেয়ার হয়তো একটি পরিবারে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে ধন্যবাদ।)